তাবলিগ জামায়াতে জিহাদের তাবলিগ- প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

 

الحمد لله، والصلوة والسلام على رسول الله- وبعد…

আফগান জিহাদ শেষ হবার পর মুজাহিদরা স্ব-স্ব অঞ্চলে জিহাদি চিন্তাধারা বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দাওয়াহভিত্তিক ইসলামি দল খুলেন। যেসব দলের মূল কাজ ছিলো দাওয়াহ। আফগান জিহাদ দলগুলোকে একটা মেরুর মধ্যে এনে দাঁড় করিয়েছিলো। এসব দলের সদস্যদের বেশিরভাগ কোনো না কোনো সময় স্বশরীরে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলো। এটা ছিলো বৈশ্বিক পরিস্থিতি।

বাংলাদেশে তখন মাত্র সামরিক শাসনের অবসান ঘটায় বাঙালিরা এই কাজ থেকে বেশ পিছনেই ছিল। ব্যক্তিগতভাবে অনেকে নব্বই থেকে চেষ্টা করলেও সার্বিকভাবে এই দাওয়াতি সংস্থাগুলোর আওয়াজ বাংলাদেশে আসে ৯৬-৯৭ এরও পরে।

এসব দলের কাজ ছিল দাওয়াহ থেকে নিয়ে ট্রেনিং পর্যন্ত। ১৯৯৫ সালের আগপর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশেই এসব দল হামলা চালায়নি। যদিও তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলো। তারা ট্রেনিং দিয়ে কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া অথবা পুর্ব তুর্কিস্তানের দিকে আগ্রহীদেরকে পাঠিয়ে দিতেন।

পাকিস্তানে এসব দলের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলো লশকর-ই-তাইয়েবা আর হারাকাতুল জিহাদ। লশকর সালাফি চিন্তাধারার ছিলো আর হারাকাত কওমি। বেয়াদবি হওয়ার শংকায় হারাকাত সরাসরি নিজ মুরব্বিদের দাওয়াহ দেয়নি। তারা নিজ বুযুর্গদের ব্যাপারে চুপ ছিলো।

এই কাজ সামলিয়েছিলো লশকর-ই-তাইয়েবা। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে হারাকাতও আলেমদেরকে দাওয়াহ প্রদানে এগিয়ে এসেছিলো। তবে ততদিন পর্যন্ত এসব দাওয়াতি দলগুলো সামরিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে।

কওমি আলেমদের মধ্যে কয়েকটা শ্রেণি রয়েছে। মৌলিকভাবে তাবলিগি, ইসলাহি আর স্বাধীন আলেমরা উল্লেখযোগ্য। তাবলিগি আলেমরা জিহাদের আয়াতকে সেই শুরু থেকেই তাবলিগের জন্য বরাদ্দ করে আসছিলেন। ইসলাহি আলেমদের গুটিকতক জিহাদে অংশ নিয়েছিলেন। বাকিদের কেউ জিহাদকে সমর্থন জানাচ্ছিলেন আর কেউ এব্যাপারে একেবারে চুপ ছিলেন। জিহাদের কাজে এগিয়ে এসেছিলেন মূলতঃ স্বাধীন শ্রেণির উলামায়ে কেরাম।

সালাফি চিন্তাধারার মুজাহিদ আলেমরা তাবলিগের সংখ্যাধিক্যে আশান্বিত ছিলেন। তারা তাবলিগের পিছনে কাজ শুরু করলেন। একটা বিষয় হচ্ছে, পাকিস্তানের সালাফি আলেমদের এই অংশটি ভারত-বাংলাদেশের আহলে হাদিসদের মতো নয়। মূলতঃ তারা আব্দুল্লাহ আযযাম রাহিমাহুল্লাহের মতো সালাফি আলেমদের অনুসারী।

এই পরিস্থিতে মারকাযুদ্দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ নামে সালাফি চিন্তাধারার একটি মারকায প্রতিষ্ঠিত হয়। ফতোয়া, দাওয়াহ, লেখা-সম্পাদনাসহ সালাফিয়্যাতের বিভিন্ন কাজ আঞ্জাম দেয় এই মারকায। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তারা রায়ব্যান্ডের তাবলিগি সালানা ইজতেমায় শরিক হন। এবং তাদের কারগুযারি মারকায থেকে প্রকাশিত সাময়িকী আদ-দাওয়াহ পত্রিকায় প্রকাশ করেন। যার চুম্বকাংশ আমি “তাবলিগ জামায়াতে জিহাদের তাবলিগ” শিরোনামে লিখছি।

বাংলাদেশের হারাকাতসহ অন্যান্য জিহাদি সংস্থাও তাবলিগের পিছনে সময় ব্যয় করেছেন। আমি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে নাম অপ্রকাশিত রেখে তাদের কারগুযারিও পেশ করবো ইনশাআল্লাহ।

এছাড়া আরেকটা বিষয়, বাংলাদেশের বিষয়গুলোর দলিল বলতে আমি ব্যক্তিই দলিল। কারো আমার উপর সন্দেহ থাকলে বাংলাদেশের অংশগুলো ছেড়ে দিতে অনুরোধ করবো।

ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

অন্যান্য মিডিয়ায় আমাকে ফলো করুন:
বারা ইবনুল মালিক আল আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফ্যান।
Posts created 5

2 thoughts on “তাবলিগ জামায়াতে জিহাদের তাবলিগ- প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

  1. আপনি যেখনে নিজেই সচ্ছ না, তাহলে আমি আপনাকে কি করে মেনে নিব,
    আপনার ইনফো গুলো সত্যতা যাচাই করতে হলে আপনাকে চেনা প্রয়োজন, আমার তো আপনাকেই সন্দেহ হচ্ছে,
    আমাদের সরকার অনেক সুসংগঠিত আপনার ভয়ের কি আছে,
    আপনার পরিচয় দিন।

    1. @হাবীব আমার পরিচয় আমি দিয়েই থাকি। আর সাইটটা আন্ডার কন্সট্রাকশন ছিল। তাই পরিচয়লিপিটা যুক্ত করতে দেরি হয়ে গেল। ধন্যবাদ!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top